ম্যাগনাকার্টা কি - ম্যাগনাকার্টা কত সালে প্রণীত হয়

 ম্যাগনাকার্টা হচ্ছে মূলত একটি ব্রিটিশদের রাজনৈতিক চুক্তির দলিল আমাদের মাঝে যদি ম্যাগনাকাটা কি তা এখনো স্পষ্ট ধারণা না থেকে থাকে তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। করণ আজ আমরা বিস্তারিতভাবে ম্যাগনাকার্টা কি তা নিয়ে একটা স্পষ্ট ধারণা আলোচনা করবো।

ম্যাগনাকার্টা কি
ম্যাগনাকাটা হলো মূলত রাজার সকল ক্ষমতা সীমানায় সংঘটিত করা ঐতিহাসিক চুক্তি মাত্র। তাই আমরা যদি ম্যাগনাকার্টা কি তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় তাহলে সাথেই থাকুন ।

ম্যাগনাকার্টা কি

ম্যাগনাকার্টা মূলত ব্রিটিশ শাসকদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত করা দলিলের বা চুক্তির নাম হচ্ছে ম্যাগনাকাটা। ম্যাগনাকার্টা কি এখানে সকল রাজাগণ তাদের নিজস্ব ক্ষমতার সীমা নির্ধারিত থাকবে। কোন রাজাগণ ব্যক্তি কেন্দ্রিক ভাবে প্রজাদের উপর অতিরিক্ত কর নির্ধারণ করতে পারবেনা, তাদের নিজস্ব কোন শাসন প্রয়োগ করতে পারবে না এবং আইনের ক্ষেত্রে সকলে সমান অধিকার লাভ করবে। এর লক্ষ্যে ১২ শতকের দিকে ১২১৫ সালে ১৫ জুন ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এই স্বাক্ষরিত দলিলের মাধ্যমে সকল রাজা গণকে আইনের সমান আওতায় এনে ছিলেন। ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরের প্রথম কন্ডিশন ছিল কোন রাজা জনগণের সমর্থন ব্যতীত সে সকল জনগণের নিজস্ব সম্পত্তির উপর রাজা ব্যক্তি কেন্দ্রিকভাবে জনগণের সম্পত্তি উপর নিজস্ব ক্ষমতা হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই দলিলে স্বাক্ষরিত করতে কোন রাজাই প্রথমে সহমত পোষণ না করায় কিছুটা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই সকল রাজাগণ স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিল। ইংল্যান্ডে সংবিধান বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি নেই কেবল ম্যাগনাকার্টা কি দলিলটির প্রয়োগ বিত্তবান রয়েছে।

ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনাকার্টা কি

ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনাকার্টা মূলত উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাকে অধিক জোরদার করা লক্ষে একটি দলিল স্বাক্ষরিত করা হয়ে ছিলো সেখানে উল্লেখ্য ছিলো যে যেসকল ব্যাক্তি ইংরেজি শিক্ষায় অধিক জ্ঞান অর্জন করবে বা এগিয়ে থাকবে সেসকল ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ অধিকার করতে সক্ষম হবেন। এটিই ছিল মূলত ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনাকার্টা দলিল মূল বিষয় বস্তু।
এই লক্ষ্যে সে সময় ১৮৫৪ সালে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছিল স্কুল, কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ। ভারতের শিক্ষার ম্যাগনাকার্টার প্রথম সূচনা করছিলেন লর্ড হার্ডিঞ্জ আঠারো শতকের দিকে। তিনি মূলত ভারতীয় জনগণকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যেই এমন প্রস্তাবন পেশ করেন। সুতরাং পরিশেষে বলা যায় ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনাকার্টা মূলত ভারতের সকল জনগনকে ইংরেজি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য এই দলিলটির মূল লক্ষ্য ছিল।

ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরিত হয় কোথায়

ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরিত হয় কোথায় এটি জানতে হলে নিম্নে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। কারণ নিম্নে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো ম্যাগনাকার্টা কি ইংল্যান্ডের একটি স্বাধীনতা বিকাশের দলিল দলিলের নাম। এটি ১২১৫ সালের জুন মাসের থেকে রানিমেড নামক জায়গা পাহাড়ি এলাকায় টমস নদীর নিকটবর্তী জায়গায় জন রাজাকে বাধ্যক্রমে ম্যাগনাকাটা দলিলে স্বাক্ষরিত করেন।

এর ফলে প্রকাশ পায় কেউ আইনের বা বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বে নয় সকলের জন্য সমান অধিকার রয়েছে বা সকলের জন্য সমান পরিমাণ সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। ম্যাগনাকাটাকে ইংল্যান্ডের একমাত্র লিখিত সাংবাদিক দলিল বলা হয় বা বাইবেলের সাথে তুলনা করা হয়। পরিশেষে বলা যায় যে ম্যাগনাকার্ট টমস নদীর নিকটবর্তী এলাকায় রানিমেড নামক জায়গায় স্বাক্ষরিত করা হয়েছিল।

ম্যাগনাকার্টা কত সালে প্রণীত হয়

ম্যাগনাকার্টা মূলত সকল রাজা গনের ব্যক্তিগত শাসনের অধিকার কে খর্বিত করার লক্ষ্যেই প্রেরিত করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে কোন রাজাগনের সমস্ত না জানালে তাদেরকে বাধ্যক্রমেই স্বাক্ষরিত করা হয়েছিল। মেঘনাকাটা ১২১৫ সালের দিকে জুন মাসের ১৫ তারিখে স্বাক্ষরিত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনে রাজনৈতিক ইতিহাসে ম্যাগনাকার্টা হচ্ছে একমাত্র সাংবাদিক দলিল বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিহাসের নাম।
কারণ ম্যাগনাকার্টা প্রেণীত হওয়ার মাধ্যমেই ফুটে উঠেছিল যে কেউ বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বে নয় আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকবে। রাজা গণ নিজস্ব কোন ব্যক্তিগত প্রথা বা আইন শাসন করতে পারবে না তাদের কেউ একটা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে থাকতে হবে এর মাঝে আইনের চোখে যে সকলে সমান এই দৃশ্যটি ফুটেছিল। বহির্বিশ্বে ইতিহাসের এই সর্ব প্রথম দলিল প্রেরিত করা হয় যে রাজা এবং জনগণের মধ্যে সকল সমান অধিকার থাকবে কেউ বৈষম্য শিকার হবে না সকলের আইনের অধিস্ত থাকবে।

বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কেন

ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতি ম্যাগনাকার্টা বলার যথার্থ কারণ রয়েছে তা নিম্নে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হলো। ১৯৪৭ সালের মধ্যে দেশ বিভক্ত হওয়ার মাঝে যখন ভারত এবং বাংলাদেশ নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম নেয় সেই সময় বাংলাদেশ তথা পূর্ব-পাকিস্তান পাকিস্তানের অধীনে থাকতে হয়েছিল। সেই সময় পূর্ব বাংলার উপর পশ্চিমবাংলার আছে চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল। 

পশ্চিম পাকিস্তানরা পূর্ব পাকিস্তানের উপর নানাভাবে অত্যাচার অন্যায় নিপড়ন করতে থাকে উদাহরণস্বরপ শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের সর্বোচ্চ অধিকার ছিল যেখানে ছিল পূর্ব বাংলার মানুষদের সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো। ১৯৬৬ সালের ইতিহাস সকলে হয়তো আমরা কম বেশি জানি পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের কিভাবে নিন করা হয়েছিল। এর থেকে মুক্তি পাবার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি প্রস্তাবিত করেছিল।
পরিশেষে ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের সমস্ত নিপীড়ন বঞ্চিত থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল এজন্য ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার রাজা জনের স্বাক্ষরিত ম্যাগনাকাটার সাথে তুলনা করা হয়। এই স্বাক্ষরিত দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট আমি ফুটে উঠেছে যে আইনের চোখে সকল ব্যক্তি আইনের অধীনে থাকবে।

বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কোন কর্মসূচিকে এবং কেন?

১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ সকল বৈষম্য নিপীড়ন, অন্যায় অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছিল বলে ছয় দফা কি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে ছয় দফা কর্মসূচিকে জোরদার করলে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য আরও বেগবান হয়ে ওঠে। এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করার পরে আমাদের স্বাধীনতা ছিড়ে নিতে সফল হয়। এজন্য বাঙালি জাতির জন্য ছয় দফা কর্মসূচিকে ম্যাগনাকার্টার সনদ সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। ছয়দবাকে ম্যাগনাকার্টাসের তুলনা করার কারণ হচ্ছে ম্যাগনাকাটা দলিলটির মাধ্যমে ফুটে উঠেছিল আইনের চোখে সকলের সমান অধীনস্থ থাকবে। 

কেউ আইনের বাহিরে নয় বা বিচার বিভাগের অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল ম্যাগনাকারা দলিলের স্বাক্ষরিতার মাধ্যমে। সকল স্তরের জনগণরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তির সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার রয়েছে কোন রাজাগন সেখানে নিজস্ব হস্তক্ষেপ করতে পারবে না জনগণের অনুমতি ব্যতীত। পরিশেষে বলা যায় যে ম্যাগনাকার্টার দলিলের চুক্তি যে সকলের সুযোগ সমান সুযোগ সুবিধা ভোগের অধিকার রয়েছে এটির সাথে আমাদের ছয় দফা আন্দোলনের সাথে অনেকটাই সাদৃশ্য লক্ষণ ও তাই ছয় দফা খেয়ে ম্যাগনাকার সাথে তুলনা করা হয়।

উপসংহার 

পরিশেষে বলা যায় যে মেঘনা কাটা হচ্ছে সকল রাজা গোনে নিজস্ব ক্ষমতা রোগ হতে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বাধ্য করণ একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সকলের আইনের চোখে সমান এই দৃশ্যটি ফুটে উঠেছিল। কেউ বিচার বিভাগের বাইরে নয় সকলের বিচার বিভাগের অধীনে থাকতে হবে। 

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url