ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি - ভিটামিন ডি এর অভাবে কি হয়

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সামনে একটি নতুন আর্টিকেল নিয়ে আসলাম ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি এবং ভিটামিন ডি এর অভাবে কি হয় এসব বিষয়। আজকে আমরা আলোচনা করব ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি কি কি।



তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি কি কি এবং ভিটামিন ডি এর অভাবে কি কি হয়। জানতে হলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে ভিটামিন ডি সম্পর্কে সঠিক ধারণা হবে। তাহলে চলুন নিছে বিস্তারিত আলোচনা জেনে নেই।

 ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য কেন প্রয়োজনঃ

আমাদের জীবন সুস্থ ও সুন্দর করতে হলে, আমাদের সবসময় সুস্থ থাকতে হবে। আর সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন পুষ্টিগুণযুক্ত খাবার। এই খাবারগুলো আমাদের এই খাবারগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সারাদিনের কাজ করার শক্তি যোগায়।এটা শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না বরং এটি আমাদের চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও অনেক সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি যে শুধু খাবার থেকে পাওয়া যায় তা নয়। এটি যেকোনো সময়ের রোদেও পাওয়া যায়। আমরা হয়তো সবাই জানি যে রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। যারা হয় তো বাইরে বের হন না কিংবা কাজে ব্যস্ত থাকেন সারাদিন ঘরে। তাদের উচিত দিনে একবার হলেও রোদে যাওয়া। কারণ ভিটামিন ডি যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের উপকারে আসে। কেমন ভিটামিন ডি এর অভাবে নানা ধরনের সমস্যার দেখা দিতে পারে। তাই দিনে একবার হলেও রোদে যাওয়া উচিত। 

আর যাদের একদমই সময় নেই। তারা ভিটামিন ডি ক্যাপসুল খেতে পারেন। এটি প্রতিদিনের শরীরে যে পরিমাণ ভিটামিন ডি প্রয়োজন তার কিছুটা হলেও ফোন করবে।

ভিটামিন ডি এর অভাবে কি হয়ঃ

ভিটামিন ডি যেমন আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারি তেমনি ভিটামিন ডি এর অভাবে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের রোগ। ভিটামিন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন এর অভাবে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি ও হতে পারে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। একটু কাজ করে ক্লান্তি অনুভব হয় সহজেই ঘুম চলে আসে। 

ভিটামিন ডি এর অভাবে যেসব লক্ষণ দেখা যায়ঃ

১।শরীর দুর্বল হয়ে পড়া 

ভিটামিন ডি আমাদের কাজের  জন্য শক্তি বাড়ায় । সারাদিন কাজ করার জন্য ভিটামিন ডি থেকে আমার শক্তি পেয়ে থাকে। তাই ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা গেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শরীর দুর্বল হয়ে গেলে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। না হয় যে কোন বড় সমস্যার সম্মুখীন করতে হতে পারে।

২। অতিরিক্ত ঘুম

অতিরিক্ত ঘুম তখনই দেখা যায় যখন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই আপনার যদি অতিরিক্ত ঘুম পায় তাহলে বুঝতে হবে যে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 

৩।ব্যথা অনুভব করা

ভিটামিন মূলত আমাদের দেহের বিভিন্ন ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে। আমরা আগে জেনেছি যে ভিটামিন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তেমনি ভিটামিন ডি এর অভাবেও ব্যথা আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতে এই বিষয়গুলোর খেয়াল রাখতে হবে । নইলে এ থেকে বড় কোন সমস্যা হতে পারে। 

৪।মানসিকভাবে সমস্যায় ভোগা 

আমাদের শরীর সুস্থ থাকলো তো সব ভালো থাকলো। মন ভালো থাকলেই সব ভালো। যখন মনে অসুস্থ হয়ে যায় তোমার আশেপাশে কোন কিছুই ভালো লাগেনা। আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মানুসিক শান্তি দেয়। কিন্তু এর অভাব দেখা দিলে মনের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়।ফলে মানুসিক সমস্যায় ভোগতে থাকে।

৫।চুল পড়া বেড়ে যায়ঃ

 আমরা হয়তো প্রায় সবাই জানি ভিটামিন ডি আমাদের চুলের জন্য অনেক উপকারি।এটা আমাদের চুল পড়া আমাদের সাহায্য করে। তাই ভিটামিনের অভাবে চুল পড়া বেড়ে যায়। চুল পড়া কমাতে হলে আপনারা ভিটামিন ডি ক্যাপসুল খেতে পারেন। গোসল করা কমাতে সাহায্য করে। 

  ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারঃ

আমরা সবাই জানি যে, ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে বড় উৎস হল সূর্য। আমাদের শরীরে যে পরিমাণ ভিটামিন ডি প্রয়োজন তার ৮০% আসে সূর্য থেকে। শুধুমাত্র যে সূর্য থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় তা নয়। আমাদের প্রতিদিনের খাওয়া বিভিন্ন খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

১। মাছ

চর্বিযুক্ত মাছের রয়েছে ভিটামিন ডি। আমরা জানি চর্বিযুক্ত মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পাঙ্গাস মাছ। এই মাছে অন্যান্য মাছের তুলনায় একটু বেশি চর্বি থাকে। আর এই চর্বিতেই রয়েছে ভিটামিন ডি। শুধু যে এই মাছে ভিটামিন ডি রয়েছে তা নয়। চর্বিযুক্ত সকল মাছের রয়েছে ভিটামিন ডি।

২। ডিমের কুসুম

ডিম কম বেশি প্রায় সবারই পছন্দ। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন ডি। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা মাছ খায় না। তারা মাছের বদলে ডিম খেতে পারে। ডিম আমাদের প্রতিদিনের পাঁচ শতাংশ পূরণ করে।

৩।কমলার রস

অনান্য খাবারের পাশাপাশি এই খাবারে রয়েছে ভিটামিন ডি এর উৎস। ডিমের মতো প্রতিদিনের পাঁচ শতাংশ ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে।

৪। দুধ

দুধ আমাদের শরীরের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। আমারা দুধ থেকে আমাদের কাজ করার শক্তি পায়। আমাদের প্রতিদিন এর প্রয়োজনীয় ২২ শতাংশ ভিটামিন ডি দুধ থেকে।

৫। দই

দই যেহেতু দুধ দিয়ে তৈরি। তাই এদের রয়েছে ভিটামিন ডি এর উৎস। আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজন ১৬% ভিটামিন ডি এর দুই থেকে আসে।

আমাদের সুস্থ রাখার জন্য এসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন

ভিটামিন ডি বেশি খাওয়ার ফলে যা হয়ঃ

কোন জিনিসেরই বেশি প্রভাব কখনোই ভালো হয় না।ভিটামিন ডি যেমন আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। তেমনি ভিটামিন ডি এর বেশি খাওয়ার ফলে এর বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতি কে দেখা দিতে পারে। 

ভিটামিন ডি এর বেশি প্রভাবের কারণে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। আমরা জানি ভিটামিন ডি মূলত রক্তে ক্যালসিয়াম সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন ডি বেশি খাওয়ার ফলে রক্ত ক্যালসিয়ামের মাথা বেড়ে যেতে পারে। ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এর মধ্যে একটা বড় সমস্যা হল কিডনি সমস্যা। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিডনিতে স্টোন এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে ।ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের শক্তি বাড়ায়। আমাদের হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের হাড়ের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি আমাদের ওপরে ক্ষমতা বাড়ায়। 

ভিটামিন ডি যেমন আমাদের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। আবার এটি বেশি খাবার ফলে ব্যথা বাড়তেও পারে। শুধু যে ব্যথা বাড়ে তা নয়। এ পাশাপাশি হজমের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রত্যেকটা জিনিস পরিমাণ মতো খাওয়া ভালো। আমারা সব সময় চেষ্টা করব পরিমাণ মতো খাওয়ার।

কারণ ভিটামিনযুক্ত খাবার কম খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে আবার বেশি খাওয়া হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবদিক বিবেচনা করে পরিমাণ মতো ভিটামিন বি যুক্ত খাবার খেতে হবে।

ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি

প্রিয় পাঠক এই পর্বে আমরা আলোচনা করব ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজির তালিকা। জানতে হলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ে কেননা এখনই আমরা আলোচনা করব ভিটামিন টি যুক্ত শাকসবজির তালিকা।
মাশরুম ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারের তালিকা প্রথমে রয়েছে মাশরুম। সাধারণত সূর্যের আলোতে এর প্রভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করে থাকে।
সার্ডিন  সার্ডিন এক ধরনের মাছ যা ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার।
সালমান  একটি অন্যান্য ভিটামিন শহীদ ভিটামিন ডি এর একটি ভালো উৎস।
টোনা  একটি মাছ যাবে ভিটামিন ডি প্রদান করে এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
জমজ  এটি ভিটামিন ডি এবং ওমেগা থ্রি মৌল একত্রে প্রদান করে এই খাবার গুলো করতে সাহায্য করে
উপরোক্ত যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এগুলোর প্রত্যেকটিতে ভিটামিন ডি যুক্ত শাকসবজি।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এই আর্টিকেলের শেষপ্রান্তে চলে এসেছি। আজকের আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে আপনি পড়েছেন। আজকের আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।
পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url