নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং - ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

বর্তমানে ইন্টারনেট এমন একটি ব্যবস্থা, যেটি আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন কঠিন কাজগুলোকে সহজ করতে পারে। আমরা অবশ্যই জানি যে অর্থ উপার্জন করা ঠিক কতটা কঠিন।  সেই সঙ্গে চাকরি পাওয়াটা এখন অনেক কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ।এই কঠিন কাজটি সহজ করতেও ইন্টারনেট আমাদের অনেক সাহায্য করে। 


ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার মাধ্যমে এখন অর্থ উপার্জন করা যায়। আর সেই কাজগুলো মুক্তভাবে করা যায়। কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে করতে হয় না। এরকমই এক ধরনের কাজ হল ফ্রিল্যান্সিং। যার অর্থ হলো মুক্তভাবে কাজ করা।
ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু সেক্টর রয়েছে। যে যার দক্ষতা ও ইন্টারেস্ট অনুযায়ী সেক্টর গুলোতে কাজ করে। এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং কিঃ

বর্তমান যুগটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেটের যুগ। আর ইন্টারনেটের যুগে বেশিরভাগ কঠিন কাজে আমাদের কাছে এখনো সহজ হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি হলো অর্থ উপার্জন। আমাদের মধ্যে হয়তো প্রায় সবাই জানে অর্থ উপার্জন করা । ঠিক কতটা কঠিন। এই অর্থ উপার্জন করতে হলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। অনেকে আছে যারা চাকরি করতে চান । কিন্তু চাকরি করাটা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। চাকরি করা মানে অন্যের অধীনে কাজ করা। সেখানে আপনি আপনার মন মর্জি মতো চলতে পারবেন না।

এছাড়া বড় কথা হল চাকরি পাওয়াটাও কিন্তু খুব একটা সহজ নয়। চাকরি পেতে গেলেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এই কারণেই অনেকে চাকরি করতে পছন্দ করেন না। তাই বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় কাজ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের তৃতীয় মাধ্যম হলো ফ্রিল্যান্সিং।

ফ্রিল্যান্সিং হল এক ধরনের চুক্তিভিত্তিক কাজ। তবে কিন্তু যে কোন এক ধরনের কাজে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয় না। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এ কাজটি করতে হলে কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকতে হয় না। আর ফ্রিল্যান্সিং মানে হল স্বাধীনভাবে কাজ করা। আর যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের বলা হয় ফ্রিল্যান্সার অর্থাৎ স্বাধীন পেশাজীবী।

ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে আরও একটি শব্দ জড়িত রয়েছে। সেটি হলো আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিং হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নিজের কর্মীদের ছাড়া অন্যান্য কর্মীদের দিয়ে কাজ করানো হয়। বিভিন্ন আউটসোর্সিং এর চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাই হলো ফ্রিল্যান্সিং।সাধারণত চাকরিজীবীদের মতো ফ্রিল্যান্সিং এর কোন নির্দিষ্ট বেতন নেই। এর বেতনটা নির্ভর করে একজন ফ্রিল্যান্সারের দক্ষতা ও কাজের ধরনের উপরে।

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু সেক্টর বা এর কাজ সমূহ

ফ্রিল্যান্সিং কোন একটি নির্দিষ্ট কাজ নয়। এর বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। এই কাজগুলোর মধ্যে আপনাকে আপনার পছন্দের কাজটি খুঁজে নিতে হবে। কারণ যে কাজে কখনো ইন্টারেস্ট থাকে না। তখন সে কাজ করতেও মন চায় না। আমাদের যেই কাজের উপর ইন্টারেস্ট আছে সেই আমাদের সে কাজটি করা উচিত। যা আমার পরবর্তীতে সেই কাজটি থেকে দূরে না সরে আসতে হয়।

আর কোন কাজের প্রতি আপনার ইন্টারেস্ট রয়েছে সেটি জানতে হলে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন সেক্টর গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। কোন কোন সেক্টরে কিভাবে কাজ করা হয়। এটি যদি আপনি ভালো করে জানেন তাহলে, আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন কাজে আপনার ইন্টারেস্ট হয়েছে। তবে সে কাজে আপনি সফল হতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের অনেক সেক্টর রয়েছে এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সেক্টর গুলোকে বর্ণনা করা হলোঃ

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ওয়েব ডেভলপমেন্ট অন্যতম একটি জনপ্রিয় পেশা। এই পেশার উপর অনেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ মূলত কোন ওয়েবসাইট তৈরি করা কিংবা সেটিকে আর ডেভলপ করা। আর একটু ভালো করে বুঝিয়ে বললে,

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা করা থেকে ইন্টারনেটের লাইভ করা পর্যন্ত যা যা কাজ করতে হয় সেই সকল কাজকে মূলত ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলা হয়। ওয়েব সার্ভারে কিছু জমা রাখা তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে দর্শনযোগ্য করে তোলার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করার কাজই হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।

গ্রাফিক্স ডিজাইন

আমাদের মধ্যে কম বেশি প্রায় সবাই ছবি আঁকতে পছন্দ করে। এই কাজটা ঠিক তেমন ধরনের। এখানে কিছু চুক্তির উপরে চিত্র আঁকতে হয়। এর চিত্রটি মূলত কিছু ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। আর এ ধরনের কাজকে মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইন বলে। গ্রাফিক্স ডিজাইনেরও কিছু ভাগ রয়েছে।

 একেক জন একেক রকম কাজ করে। এর মধ্যে একটি হল লগো ডিজাইন। এরকমই আরো বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন তাদের করতে হয়। আর এইখানে তাদের দক্ষতার উপরেই অর্থ উপার্জন টা নির্ভর করে। যে যত ভালো কাজ করবে সে তত বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

মার্কেটিং মানে কি আমরা হয়তো সবাই জানি। মার্কেটিং হল মূলত এমন একটি ব্যবস্থা । যে ব্যবস্থায় মানুষদের সে জিনিসটির প্রতি আকর্ষিত করে তোলেন। এ আকর্ষিত করে তোলার কাজকে মূলত মার্কেটিং বলে। আর কিছু ডিজিটাল নিয়মে মার্কেটিং করাকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং।

বর্তমানে সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এবং দিনের বেশিরভাগ সময়ে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এখন যদি এই ইন্টারনেটে মার্কেটিং ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অবশ্যই লাভ হবে। কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো জিনিসের বিজ্ঞাপন খুব সহজে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এতে আপনার বিভিন্ন প্রোডাক্টের সম্পর্কে সকলেই জানবে। সে সঙ্গে সেটি কিন্তু সকালে আগ্রহ দেখাবে।আর এই ইন্টারনেটে মার্কেটিংয়ের কাজ করা কি মূলত বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট

আমাদের কাজের সুবিধা হওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। অ্যাপটি যেকোনো ধরনের হতে পারে। আবার অনেকে গেম খেলতে পছন্দ করে । গেম খেলার জন্য কিন্তু অ্যাপ এর প্রয়োজন হয়। সে অ্যাপের মাধ্যমে আমরা গেম খেলে থাকি।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট মানে হলোঃ মোবাইলে অ্যাপ তৈরি করা। আরে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর কাজে বিভিন্ন অ্যাপ কিভাবে তৈরি করতে হয়। সেটিকে শেখানো হয়। সেই সঙ্গে সে অ্যাপ থেকে কিভাবে ডেভলপমেন্ট করতে হয় সেটিও শেখানো হয়।

সাইবার সিকিউরিটি

সিকিউরিটি মানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর সাইবার মানে ইন্টারনেটে যে অপরাধ টি করা হয় সেটিকে বলা হয়। আপনারা সকলেই শুনেছেন সাইবার অপরাধের কথা। এই সাইবার সুরক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু ব্যবস্থা রয়েছে।এর মধ্যে একটি হল সাইবার সিকিউরিটি।

এটি মূলত এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ। কম্পিউটারের কিংবা ইন্টারনেটের কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি কিংবা তার ক্ষতি না হয়ে যায় সেজন্য এর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা তে মূলত কিভাবে সাইবার থেকে বেঁচে থাকা যায়। এবং সেগুলোকে ধ্বংস করা যায় , সেটি শেখানো হয়।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেনঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর কিন্তু অনেকগুলো সেক্টর রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে অবশ্যই যেকোনো একটি বিষয়ে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনি যদি দক্ষতা অর্জন করতে চান। তাহলে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে কোন একটি বিষয় উপর কোর্স করতে হবে। কিংবা আপনি কোন প্রতিষ্ঠান থেকেও ফ্রিল্যান্সিং এর যে কোন একটি বিষয়ের উপর কোর্স করতে পারেন।

আর আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানে না শিখতে চান তাহলে, ইউটিউব থেকেও আপনি শিখতে পারবেন। এখন কথা হল ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজটা কিভাবে শুরু করব। এর জন্য প্রয়োজন মার্কেটিং প্লস। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কমন একটি বিষয় হল মার্কেটিং প্লেস। এ মার্কেটিং প্লেসে ফ্রিল্যান্সেররা তাদের কাজের জন্য এপ্লাই করে। এবং এখান থেকেই তারা তাদের অর্থ উপার্জন শুরু করে।

মার্কেটিং প্লেস গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ 

  • ফ্রিল্যান্সার ডট কম
  • আপ ওয়ার্ক ডট কম
  • পিপল আওয়ার ডট কম
  • গুরু ডট কম এছাড়াও আরও অনেক রয়েছে। যেগুলোতে আপনি কাজের এপ্লাই করতে পারবেন। সে সঙ্গে আপনি আপনার ক্লাইন্ডও খুজে পাবেন। ফলে আপনার অর্থ উপার্জন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবেন।

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করা নতুনদের জন্য এটি একটি অপূর্ব সুযোগ। ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি কর্ম পদ্ধতি যেখানে আপনি স্বনিয়ক্তভাবে কাজ করতে পারেন এবং আপনার কর্মের জন্য স্বয়ং মূল্যায়ন করতে পারেন। এটি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অনুভব করতে সাহায্য করে। 

আপনি অনেক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন, যেমন লেখা, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং, ইত্যাদি। প্রথমে, একটি প্রোফাইল তৈরি করুন এবং আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা উল্লেখ করুন। প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে আবেগ দেখুন এবং আপনার দক্ষতা এবং মৌল্য অনুযায়ী প্রজেক্ট বিনির্বাচন করুন। এটি আপনার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল শুরু হতে সাহায্য করতে পারে।
পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url