সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতা - লিচু ফুলের মধুর উপকারিতা

মধু হয় মৌচাকে। আর মৌমাছিরা মধুর সংগ্রহ করে এই মৌচাকে। মৌমাছি সংগ্রহ করা মধু আমাদের বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। মধু নিয়মিত খাওয়ার ফলে সর্দি-কাশি কমে যায়। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। অনেকে বাড়তি ওজন কমাতেও মধু খেয়ে থাকেন।

মধু সংগ্রহ করা হয় ফুল থেকে।  তাই ফুল ভেদে মধুর উপকারিতা ভিন্ন। সেরকমই দুইটি ফুল হল সরিষা ফুল ও লিচু ফুল। এই দুইটা ফুলের মধুই আমাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাহলে চলুন জেনে নিই এগুলো কিভাবে আমাদের সাহায্য করে। এবং কোন নিয়মে খেলে এগুলোর  আমরা এর উপকারিতা পাব।

সরিষা ফুলের মধুর বৈশিষ্ট্য

মধু বিভিন্ন ফুল থেকে সংগ্রহ করে হয়ে থাকে। তাই একেক ফুলের মধু এক এক রকম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাই সহজেই সরিষা ফুলের মধু চিনে নিতে হলে এই ফুলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। প্রথমত এ মধু থেকে সরিষা ফুলের মতো ঘ্রাণ পাওয়া যাবে। এই মধু যখন পাতলা হয়ে যায় এ থেকে ফেনা হতে দেখা যায়। এই ফুলের মধুর রং(Extra Light Amber) এক্সট্রা লাইট অ্যাম্বার।

সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতাঃ

সরিষা ফুল মূলত শীতকালের দিকে চাষ করা হয়। শীতকাল-পোষ ও মাঘ মাস মিলে। তাই শীতের শুরুর দিকে সরিষা বীজ বোনা হলে এটি বড় হতে হতে মাঘ মাস হয়ে যায়। আর এই সময়ে মৌমাছিরা এ ফুলের মধু সংগ্রহ করতে থাকে। আর এই কারণে এই মাঘ মাসের দিকে সরিষা ফুলের মধু পাওয়া যায়। 

এইসব মধু খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় টি হল প্রতিদিন সকালে খালি পেটে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চামচ মধু খেতে পারেন। এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। এখন আমরা আলোচনা করব সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতা সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেই সরিষা ফুলের মধুর উপকারিতা কি কি।

১।সরিষা ফুলের মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

.২।এর সঙ্গে এটি হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩। শরীরের রক্ত সঞ্চালনেও সাহায্য করে।

৪। ক্যান্সার রোগীদের জন্য অনেক উপকারী

৫। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

৬। বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৭। শীতের সময় যদি মধু খাওয়া যায় তাহলে এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই অনেকে শীতের সময় বেশি মধু খেয়ে থাকেন।

৮। এই মধুতে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৯। এ মধুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে।

১০। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি খাওয়া বারণ। তাই তারা চীনের বোতলের মধু খেতে পারেন।

লিচু ফুলের মধুর বৈশিষ্ট্যঃ

সরিষা ফুলের মত এই মধুটি ঘ্রানো কিছুটা লিচু ফলের সাথে মিল রয়েছে। তবে সময়ের পার্থক্যের জন্য এর ঘ্রাণ কিছুটা বদলেও যেতে পারে। এই ফুলের মধুর রং (Light Amber) লাইট অ্যাম্বার। তবে এর রং কখনো কখনো Light কিংবাDark হয়ে থাকে।

এই ফুলের মধুর ঘনত্ব বেশি কিংবা পাতলা হতে পারে। যখন এই মধুর ঘনত্ব বেশি থাকে তখন ফ্যানা দেখা যায় না। আর যদি ঘনত্ব পাতলা হয়ে থাকে তাহলে ফেনা দেখা যায়।

লিচু ফুলের মধুর উপকারিতাঃ

লিচু গ্রীষ্ম কালিন ফল। শীতের শেষের দিকে মূলত লিচু গাছে ধীরে ধীরে মুকুল ধরতে দেখা যায়। এ মুকুল ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেলে মৌমাছিরা এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। এবং মৌচাকে গিয়ে জমা করে।

এই ফুলের মধু পুষ্টিগুণ ও ভরপুর। বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান রয়েছে এই ফুলে। শুধু যে ভিটামিন উপাদান রয়েছে তা নয় এর সঙ্গে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টজ রয়েছে। আর এই কারণে এটি আমাদের জন্য অনেক উপকারী।

লিচু ফুলের মত উপকারিতা নিচে দেওয়া হলঃ

১। এই মধু বিভিন্ন ধরনের হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি পেটের ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় দূরীকরণে সাহায্য করে।

২। ঠান্ডা জনিত কোন রোগের ক্ষেত্রেও এ মোর অনেক উপকারী। যেমনঃ গলা ব্যথা, হাঁচি -কাশি ইত্যাদি ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

৩। সরিষা ফুলের  মধুর মতো এটিও হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। 

৪। হাড়েরও বিভিন্ন সমস্যা নির্মূল করতে সাহায্য করে। বিশেষত যাদের রুক্ষ ত্বক তাদের জন্য এটি আরো উপকারী।

৫। যাদের রাতে ঘুমের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে, এই মধু খাওয়ার ফলে এ সমস্যাগুলো দূর হয়ে যেতে পারে।

৫। বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যায় লিচু ফুলের মধু আমাদের জন্য উপকারী।

কোন ফুলের মধু খাওয়া ভালো

বহুতেমা এবং লাভলি ফুলের মধু খাওয়ার স্বাস্থ্যকর এবং আন্তদৃষ্টি উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি নিয়মিতভাবে খেলে ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধি পায় এবং মাংসপেশী সুষ্ঠু রাখে এবং স্কিনের স্বাস্থ্য অনেক উন্নতি করে। এই মধুতে প্রাকৃতিক এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় একটি অন্তর্নিহিত সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

অর্গানিক মধু কি

প্রিয় পাঠক আপনি জানতে চেয়েছেন অর্গানিক মধু কি। অর্গানিক মধু হলো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি উচ্চমানের বিশুদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যকর পণ্য। অর্গানিক মজুতে কোন কীটনাশক বা কোন ক্ষতিকারক রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ নেই স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা কৃষকের মাধ্যমে উৎপাদিত এটি পরিবেশের জন্য উপকারী কারণ অর্গানিক মধু হারমোনায় বজায় থাকে।

লিচু ফুলের মধুর ছবি











শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এই পরিবেশ শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। আশা করছি আপনি খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। আজকের এই আর্টিকেল সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url