হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী রচনা

আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সামনে নিয়ে আসলাম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংক্ষিপ্ত জীবনী। আমরা অনেকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাম শুনেছি কিন্তু তিনার জীবনের সম্পর্কে জানিনা। আজকের এই আরটিকালের মাধ্যমে আপনাদের কেনার সংক্ষিপ্ত জীবন সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করব।
                                                                         
হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী রচনা


মক্কা নগরীতে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে যখন মানুষ খুন লন্ঠন ধর্ষণ আমানতের খেয়ানত করে। তখন মহান আল্লাহ পাক ও পৃথিবীর শান্তির বাহক হিসেবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে মক্কা নগরীতে আমাদের শেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। আজকে আমরা তিনার সংক্ষিপ্ত জীবন জেনে নিব।

ভূমিকাঃ

 আরব জাতি যখন কুসংস্কার , কুপ্রথা, অন্যায়, অত্যাচার, আর বিশৃঙ্খলার পঙ্কিলতায় আচ্ছন্ন ছিল, তখন ওই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে দিশেহারা, পথভ্রষ্ট, আদর্শ ভ্রষ্ট, আরব বাসিকে সত্যের আলোতে মুক্তি দিতে যিনি সত্যের জ্যোতিতে বিশ্ব লোক উদ্ভাসিত করে করে এই  ধারধামে এলেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।

জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ

 আরবের মক্কা নগরীতে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার মক্কার অভিজাত কুরাইশ বংশের হযরত মুহাম্মদ( সঃ) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামহ এর নাম ছিল আব্দুল মুত্তালিব। তিনি একজন সম্মানিত ও বয়োবৃদ্ধ ধর্মীয় নেতা। আব্দুল মুত্তালিবের অন্যতম পুত্র আব্দুল্লাহর ঔরসে ও আমিনার গর্ভে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) জন্ম গ্রহণ করেন । জন্মের পূর্বে তার পিতা পরকাল গমন করেন। ছয় বছর পর তার মাতাও পরকাল গমন করেন ।

শৈশবকালঃ

 বিভিন্ন ধরনের দুঃখ কষ্টে হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর বাল্যকাল অতিবাহিত হয়। পিতৃব্য অবস্থাও  খুব ভালো ছিল না।তাই তাকে বিশেষ কষ্টের মধ্যে দিয়ে বাল্যকাল কাটাতে হয়েছে। তিনি পুঁথিগত বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি লাভ করতে পারেননি। বিশ্বপ্রকৃত ও সৃষ্ট বৈচিত্র তার চোখের সামনে অফুরন্ত জ্ঞান ভান্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।

যৌবন ও সাধনাঃ

 যৌবনে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বহু দেশ পর্যটন করেন। দেশে-বিদেশে পরিভ্রমণ করে তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে করেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি দার পরিগ্রহ করেন।বিবি খাদিজা (রঃ) নামের এক ধনবতী মহিলার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি শরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গমন করেন। তার অতুলনীয় সততা ও বিশ্বস্ততায় বিবি খাদিজা (রঃ) মুগ্ধ হলেন এবং তার সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাব করলেন। তার বিয়ে হল। হযরত বিবি খাদিজা (রাঃ) ছিলেন ধর্মপরায় আদর্শ পত্নী।মহানবি (সঃ)মক্কা হতে কিছু দূরে হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।.৬১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি জিব্রাইল( আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহর বাণী লাভ করেন। এবং তখন থেকেই তিনি ওই বাণী প্রচার করতে শুরু করেন।

ইসলাম প্রচারঃ

 তিনি পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা বানী প্রচারের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এই বাণী প্রচার করার জন্য তাকে অনেক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল। আত্মীয়, বন্ধুর শত্রুতা, গোত্রের অত্যাচার কোন কিছুই তাকে সত্য প্রচার হতে বিরত রাখতে পারেনি। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী এ বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে তিনি অগ্রসর হয়েছিলেন। 

ইতিমধ্যে তার প্রাণবধের ষড়যন্ত্র চলতে লাগলো। আল্লাহর নির্দেশে বাধ্য হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ )৬২২ খ্রিস্টাব্দে আবুবকর (রাঃ) সহ মদিনায় হিজরত করেন। মদীনায় তিনি সাদরে গৃহীত হলেন, তার ধর্ম গ্রহণ করল । ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বদর, ওহুদ, খন্দক প্রভৃতি স্থানে কুরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধ হলো। একমাত্র উহুদের যুদ্ধ ছাড়া সর্বত্রই মুসলমানেরা বিপুল বিক্রমে জয়লাভ করেছিল।

মক্কা প্রত্যাগমনঃ

 হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে হজ করার জন্য মক্কা গমন করেন। এরপর তার জীবনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা মক্কা বিজয়। বিনা রক্তপাতে এমন অপূর্ব কার্য সমাধান করার কাহিনী ইতিহাসে বিরল। হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন খুব দীর্ঘ ছিল না, কিন্তু এই সর্বপরিষদ জীবনের তিনি আরববাসীকে তথা গোটা মানবজাতিকে অজ্ঞতার অন্ধকার হতে জ্ঞানের আলোতে টেনে নিয়ে আসেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ কি ছিলেন

আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম কে ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তির দূত, আরবের একজন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা। এবং তিনি হলেন শেষ নবী তিনার পরে আর কোন পৃথিবীতে নবী আসবেনা। এবং তিনার উপরে নাযিল হয়েছিল পবিত্র কোরআন শরীফ।

নবীর প্রথম স্ত্রীর নাম কি?

প্রিয় পাঠক আপনারা জানতে চেয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রথম স্ত্রীর নাম কি আপনি যদি না জেনে থাকেন তিনি আর প্রথম স্ত্রীর নাম কি তাহলে আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জেনে নিন। তিনার প্রথম স্ত্রীর নাম হলো খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ।

হযরত মুহাম্মদ কত বছর দাওয়াত দেন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ছিলেন একজন ইসলাম ধর্মের শেষ নবী। তিনি প্রথমে মক্কাতে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন পরে তিনি মদিনাতে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ৬১০ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন।


মহানবের ওফাতঃ

 বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ৬৩ বছর বয়সে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ৮ই জুন ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার ইহকাল ত্যাগ করেন।ওফাতের পূর্বে বিদায় হজের শেষ ভাষণে তিনি ইসলামকে মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তিনি মুসলমানদেরকে উপদেশ দেন, মুসলমানগন যাতে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে। কারণ এর আগে যথাযথ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে তারাই  ধ্বংস হয়েছে।

উপসংহারঃ

 হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালাম এর চরিত্র, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্যশীলতা, সত্যনিষ্ঠা, দানশীলতা,  যেকোনো মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তিনি পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাই তার জীবনীকে একজন আদর্শ মহাপুরুষের জীবনী বলা হয়। আমরা সকলেই তাঁর জীবনে অনুসরণ করে চলব। এবং এর মাধ্যমে আমাদের জীবন সুখের ও সুন্দর করে তুলতে পারবো।

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url