ডিসেম্বরের সবজি চাষ - শীতকালীন সবজির উপকারিতা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সামনে একটু ব্যতিক্রমধর্মী আর্টিকেল নিয়ে আসলাম। সেটি হল ডিসেম্বর মাসের সবজি চাষ। আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো ডিসেম্বর মাসে কি কি সবজি চাষ করে আপনি অল্প সময়ে লাভবান হতে পারে সেই বিষয়ে। তাই আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আপনাদের অনেক উপকারে লাগবে।
                                                                               


আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন গোপন কিছু টিপস। যেটিসের মাধ্যমে আপনি আপনার সবজির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে আমরা নিজেই সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা করতে পারবেন। তাই জানতে হলে আজকের এই পর্বটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

  শীতকালে সবজি চাষের সময়

শীতকালে সবজি চাষ করা শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় সব থেকে ভালো সময় শীতকালীন সবজি চাষ করার। কার্তিক মাসের শেষে ধান কাটা শেষ হলে কৃষকেরা শীতকালের সবজি চাষ করা শুরু করে। এ কার্তিক মাসের শেষে বাড়ির ছাদে টবেও শীতকালের সবজি চাষ করা যায়। এই সময় নতুন নতুন সবজি বাজারে ওঠে।এগুলো থেকে নানান ধরনের পুষ্টি পাওয়া যায়। এমন কিছু ধরনের সবজি আছে যা শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া যায় । শীতকালে অনেক পরিমাণে সবজি চাষ করা যায়। 

শীতকালে যেসব সবজি চাষ করা যায়

কিছু কিছু সবজি আছে যেগুলো বারো মাসে পাওয়া যায়, এগুলো ব্যতীত এমন সবজি আছে যা শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া যায়। আবার কিছু কিছু সবজি যেগুলো বারো মাসে পাওয়া যায় সেগুলো কিছু সবজি আছে যেই গুলো শুধু শীতকালে বেশি চাষ বেশি হয়। যেমনঃ পেঁয়াজ, রসুন। এখন আমরা জানবো শীতকালের বেশ কিছু সবজির নাম । তাহলে চলুন জেনে নিন শীতকালের যে ১৫ টি সবজি চাষ করা হয় তার নামের তালিকা।

শীতকালের যে ১৫টি সবজির চাষ করা যায়

  • সিম
  • টমেটো -
  • ফুলকপি 
  • ক্যাপসিকাম 
  • গাজর 
  • বেগুন 
  • মুলা
  • লাউ
  • মিষ্টি কুমড়া 
  • মটরশুটি 
  • পেঁয়াজ
  • রসুন 
  • বাঁধাকপি 
  • আলু 

শীতকালে যেসব  ১০ টি শাক চাষ করা যায়

  • পালং শাক 
  • লাল শাক 
  • ধনা পাতা 
  • রাধুনী পাতা 
  • বুটের শাক 
  • খেসারির শাক 
  • সরিষা শাক 
  • সবুজ শাক
  • পুঁইশাক 
  • মুলা শাক 

সবজি চাষের পদ্ধতি

এইসব সবজি চাষ করতে হলে যে কোন জমিতে কিছুদিন জৈব সার দিতে হবে। জৈব সার গুলো হলঃ বিভিন্ন ধরনের নষ্ট খাবার, ময়লা আবর্জনা, গোবর ইত্যাদি। সার দেওয়ার কিছুদিন পর মাটিগুলোকে ঝরঝরা করে নিতে হবে। এরপর বিজ এনে বিচ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর এর ওপরে আবার জৈব সার মেশানো মাটি দিতে হবে। এবার পানি দিয়ে দিতে হবে। দুই থেকে চার দিনের মধ্যে ছোট ছোট চারা গাছ বেরিয়ে আসবে। এভাবে গাছের যত্ন নিতে থাকলে ধীরে ধীরে গাছটি বড় হয়ে উঠবে।এভাবে অনেক পরিমাণে সবজি চাষ করা যায়। 

টবে শীতকালীন সবজি চাষ


 আজকাল দেখে থাকি অনেকে তাদের নিজের বাড়ির ছাদে সবজি চাষ করে।এবং এটা তারা অনেক লাভবান হয় । অনেক পরিমাণে  সবজি চাষ করা যায়। আজকে জেনে নিব বাড়ির ছাদে টবে কিভাবে শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়। এটা অনেক সহজ । তাহলে চলুন জেনে নেই।

প্রথমত একটি নির্দিষ্ট পাত্র নিয়ে আসতে হবে। সে পাত্রে কিছু পরিমাণে ছিদ্র করে রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে। এরপর এখানে পরিমাণ মতো মাটি দিতে হবে। মাটির সাথে জৈব সার মিক্স করে দিতে হবে। যেন গাছ তার পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি পায় এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে। জৈব সার সাথে কিছু পরিমাণ ভালো মিক্স করলেও  হয়। একটি গাছের জন্য ভালো। 

এরপর বীজগুলো এনে। সমান পরিমানে  সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর এর ওপরে আবার মিক্স করা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে । যেন পানি দিলে বীজগুলা দেখা না যায়। এরপর পানি দিয়ে রোদে রেখে দিতে হবে।খেয়াল রাখতে টপটি যেন খুব কড়া রোদে না থাকে। এটি গাছের জন্য ক্ষতিকারক। এরপর পানি দিতে থাকলে দু চার দিনের মধ্যেই চারা গাছ বের হয়ে আসবে। আবার কিছু পরিমাণের জৈব সার দিয়ে দিতে হবে। তাহলে গাছের সবজি ফলান ভালো হয়।

শীতকালে শাকসবজি খাওয়ার উপকারিতা

 শীতকাল এমন একটি মৌসুম যে মৌসুমে প্রায়  অসুখ বিসুখ লেগে থাকে। তাই এ সময়ে শীতকালীন শাকসবজি খাওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। এসব শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে,সর্দি ঠান্ডা থেকে  রক্ষা করে। তাহলে জেনে নেই শীতকালের কোন শাকসবজি কোন কোন উপকার করে। 

শীতকালের সবজি যেমনঃমিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, মুলা ইত্যাদি। 

মিষ্টি কুমড়াঃ মিষ্টি কুমড়াতে থাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,খাদ্য হজমে সাহায্য করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। 
ফুলকপিঃ ফুলকপিতে আছে ভিটামিন বি,ভিটামিন সি,ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম, জিংক । যা  ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে । 

মুলাঃএতে রয়েছে ভিটামিন বি,ভিটামিন সি, ফাইবার।যা কিডনি সুস্থ রাখে, হার্ড ভালো রাখে, ওজন কমাতে সাহায্য করে। 


শীতকালের শাক আমাদের দেহের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। যা আমাদের দেহ সুস্থ রাখে। শীতকালের শাক যেমনঃপালং শাক, কলমি শাক, পুঁইশাক ইত্যাদি। 

পালং শাকঃপালং শাকের রয়েছে ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, নাইট্রেট আর রয়েছে আইরন। পালং শাক আমাদের নাচনাতোর সমস্যা থেকে রক্ষা করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 

কলমি শাকঃএতে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, জিংক,পটাশিয়াম। পালং শাক আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

পুঁইশাকঃএতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আরো রয়েছে ফ্যালিক এসিড,ক্যালসিয়াম আইরন । পালং শাক আমাদের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। 

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এই আর্টিকেলের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন শীতকালে কি কি সবজি চাষ করা যায় এসব বিষয়। এবং এই শীতকালের সবজির কি কি উপকারিতা আছে। আশা করছি আজকের আর্টিকেল আপনার অনেক ভালো লাগবে।

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url