ধনী হবার পাঁচ উপায় - যা অনেকেই জানেন না

আমার প্রত্যেকে আমাদের জীবনে একজন ধনী ব্যক্তি হতে চাই। টাকা আমাদের জীবনের সমস্ত চাহিদা মেটাতে পারে। আর এই টাকার অভাবে অনেকে অনেক সময় না খেয়ে, টাকার অভাবে চিকিৎসা না করে মারা যায়। তাই যদি আমরা ধনী হতে পারি, আমাদের কাছে যদি যথেষ্ট টাকা থাকে জীবনের পথে চলার জন্য। 

তাহলে আমাদের জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। এ কারণে ধনী হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স হয় না।আপনি একটু ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, ছোট কিংবা বড় সকলে টাকার জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যারা ছোট, স্টুডেন্ট , তারা তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এখন পরিশ্রম করে পড়াশোনা করছে। যেন তারা পরবর্তীতে একটি ভালো জব পেতে পারে এবং সেখান থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ভূমিকা

আবার যারা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও ভালোর জন্য টাকা ইনকাম করে। তারাও কিন্তু তাদের সুন্দর একটা ভবিষ্যতের জন্যই এসব করে থাকেন। বর্তমানে সবাই টাকার পিছনে ছুটছেন।সামান্য এই টাকা আমাদের জীবনটাকে পুরো বদলে দিতে পারে। তাই সকলেই টাকার পেছনে ছুটে চলেছে। তাদের এই টাকার পেছনের মূল কারণ হলো তাদের জীবনটাকে সুন্দর ও সহজ করে তোলা।

যে ১০ ভুল আপনাকে কখনোই ধনী হতে দেবে না 

তাই তাদের কাছে ধনী হওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে ম্যাজিক বলতে কোন কিছুই নেই এবং ধনী হওয়া কোন শর্টকাট নেই। তাই ধনী হতে হলে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। ধনী হতে গেলে কিছু কিছু অভ্যাস আপনাকে পরিবর্তন করতে হবে এবং কিছু কিছু নতুন অভ্যাস মানিয়ে নিতে হবে। একটা সঠিক প্ল্যান আপনাকে আপনার গোল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

তাই কোন কিছু করার আগে অবশ্যই একটি সঠিক প্ল্যান করা প্রয়োজন যেমন ধরুন, একটি স্টুডেন্ট তার পড়াশুনা  ঠিক টাইম মতো হয় সেজন্য তাকে একটি রুটিন বানাতে হয়। যেন তার সময় গুলো অপচয় না হয়। সময়কে সে কাজে লাগাতে পারে। তাই আপনাকেও একটি সঠিক প্ল্যান বানাতে হবে ধনী হওয়ার জন্য। যে আপনি কোন কোন কাজ করলেধনী হওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। তাহলে সে প্ল্যানগুলোকে স্টেপ বাই স্টেপ দেখে নিই।

১।STOP  PROCRASTINATION

Procrastination এর অর্থ হল কোন কাজকে কালকের জন্য রেখে দেওয়া। যেমন ধরুন আপনারা যারা এই পোস্টটি পড়বেন। তারা বলবেন যে হ্যাঁ এই কথাগুলোর যুক্তি রয়েছে। এগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাহলে আমি কাল থেকে এর টিপসগুলোকে ফলো করবো। অর্থাৎ হাতে আরো সময় আছে বলে ভবিষ্যতের জন্য কাছ থেকে ফেলে রাখবেন। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো যে, আপনার ওই কালকের কাজটি আর কখনো আসবে না।

আর এভাবেই আপনি ভুলে যাবেন যে,আপনি কোনদিন এই পোস্টটি পড়েছিলেন। তাই এই ভুলটি অনেকে থাকে। ধনী হওয়ার ক্ষেত্রেও এ একই ভুলটি প্রায় সকলেই করে থাকে। আপনারা দেখে থাকবেন বেশিরভাগ স্টুডেন্টরাই এটা ভাবে যে। এখন এত পড়াশোনা করে ফিউচার কথা ভেবে কি লাভ। পরে যখন টাকা ইনকাম করা হবে তখন করে নেব। 

এখনকার এই লাইফ কি পরবর্তীতে আর পাবো তাই এখন ইনজয় করার সময়। আগে নিজের ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করে তারপর নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করব। তাই আপনার মাথায় কি এসব চিন্তাভাবনা দূর করে দিতে হবে যদি আপনি একজন ধনী ব্যক্তি হতে চান। আর এখন থেকে আপনার কাজে আপনি ফোকাস করুন।

যে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমাকে একজন ধনী ব্যক্তি হতে হবে। তার জন্য আমার সবটা লাগিয়ে কাজ করতে হবে। এর ফলে আপনার স্কিল এবং আপনার ইনকাম দিয়ে ধীরে বাড়তে থাকবে। আপনি এভাবে যত টাকা ইনকাম করতে শুরু করবেন তত টাকা সেভিং করার চেষ্টা করবেন। 

টাকা সেভিং করা ধনী হওয়ার একটি অন্যতম টিপস। তাই অযথা অন্যান্য কাজে টাকা খরচ না করে সেভিং করতে শিখুন। এ টাকা করে আপনাকে আপনার বিপদের হাত থেকে বাঁচাবে। তাই যতটা সম্ভব টাকার সেভিং করতে শিখুন।

২।ACCEPT REALITY

রিয়ালিটিকে এক্সেপ্ট করতে শিখুন। তার এটা সত্যি যে পৃথিবীতে জাদু বলতে কোন কিছুই হয় না। যে জাদু করে আপনি এক রাতের মধ্যেই ধনী হয়ে যাবেন। আবার এমন কোন শর্টকাট পদ্ধতিয় নেই যে আপনি কয়েকদিনের মধ্যে ধনী হয়ে যাবেন। মানুষের ব্রেন সবসময় শর্টকাট পদ্ধতিটি খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু মনে রাখবেন শর্টকাট কাজ করে কোন কিছুই করা যাবে না। তাই এগুলো চিন্তা ভাবনা মাথা থেকে বের করে আপনার কাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠুন।

৩।INVEST YOURSELF

ইনভেস্টমেন্ট বলতে আমরা প্রায় সকলের বুঝি যে অন্য ব্যক্তি কিংবা নিজের বিজনেস গুলো করার জন্য টাকা বিনিয়োগ করা। কিন্তু যারা নিজেদের চেষ্টায় কোটিপতি হয়েছেন তারা সবসময় নিজেদের প্রতি ইনভেস্ট করেছেন।নিজের জন্য ইনভেস্ট করাকে কোন চাহিদা পূরণ কিংবা কোন শখ পূরণ কে বোঝানো হয় না। 

নিজের প্রতি ইনভেস্ট করা মানে নিজের স্কিল গুলোকে আরো বৃদ্ধি করে তোলা। আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, সে বিষয়ে আপনার স্কিল গুলোকে আরও ডেভলপ করে তুলুন।যেমন ধরুন আপনার বিজনেসে ইন্টারেস্ট রয়েছে তাহলে কিভাবে নিজের কাস্টমারগুলোকে আনতে হবে এবং কিভাবে মার্কেটিং করতে হবে সেটি সম্পর্কে স্কিল বৃদ্ধি করুন। 

আবার যাদের সফটওয়্যার জাতীয় কাজের উপর ইন্টারেস্ট রয়েছে, তাহলে তারা সে কাজের সম্পর্কে আরো বেশি করে এবংযানুক তার স্কিল গুলোকে আরও বৃদ্ধি করুক। এভাবে আপনি আপনার নিজের ভেতরের স্কিল গুলোকে আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন। তাই আপনার উপার্জিত অর্থ থেকে কিছু অর্থ আপনার এই স্কেল বৃদ্ধির কাজে লাগান। 

এটি আপনার জন্য অনেক ভালো ফলাফল হতে পারে। আপনি চাইলে youtube থেকে আপনার স্কিল গুলোকে বৃদ্ধি করতে পারেন। কিংবা সেই বিষয়ে কোন কোর্স করে আপনি আপনার স্কিল গুলো কি বৃদ্ধি করতে পারেন। এতে আপনার অর্থ উপার্জন হবে এবং আপনার জীবনটাও সুখের হয়ে উঠবে।

৪।CREATE A BUDGET

আমাদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা মাসে এমন টাকা ইনকাম করেন ।যে তারা তাদের সেই টাকা দিয়ে খুব সহজে ধনী হয়ে যেতে পারে। কিন্তু মাসের শেষে তাদের হাতে কোন টাকায় থাকে না। অর্থাৎ তাদের টাকার অভাবও দেখা দেখা দেই। তার কারণ হলো তাদের সমস্ত টাকা তাদের অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করেন। 

তাদের জন্য এটাই বলব যে, যে কোন কিছু কেনার আগে অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করুন যে এটি কি সত্যিই আপনার জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। না হয় তাহলে সেটা কেনার কোন প্রয়োজনই নেই।এরপরেও যদি আপনি ভেবে বুঝতে পারছেন না যেটা আপনার প্রয়োজনীয় কিনা। তাহলে সেটিকে 15 থেকে 20 দিন পর কেনার চেষ্টা করুন। এতে সেটি যদি আপনার সত্যি প্রয়োজন এ হয় তাহলে কিনে ফেলুন আর না হলে আপনি এমনিতেই সেটি ভুলে যাবেন। 

যে আপনার সেটি কেনার কথা ছিল। যতটা সম্ভব চেষ্টা করবেন কম টাকা খরচ করার। এছাড়া যদি মনে হয় আপনার অন্যান্য কাজে আরও টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, তাহলে আপনি একটি লিস্ট তৈরি করুন যে আপনি মাসে কোন কোন জিনিস কিনছেন এবং আপনার কোন কোন জিনিস প্রয়োজনীয়। তাহলে বুঝতে পারবেন যে, অন্যান্য কোন জায়গায় আপনার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

তাহলে আপনি একটি সেভিং অ্যাকাউন্ট করে নিতে পারবেন। এ থেকে আপনার ইমার্জেন্সি কাজের জন্য কিছু টাকা আলাদা করুন এবং কিছু টাকা ইনভেস্ট করুন। আবার সে ইনভেসমেন্ট এর প্রফেট গুলোকেউ আবার ইনভেস্ট করুন। এ থেকে আপনার সেই টাকাটি আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

৫। PAY DOWN YOUR ALL DEBET

সেভিং এবং ইনভেস্টমেন্ট প্রসেস শুরু করার আগে আপনি যদি কোন ধারবালন নিয়ে থাকেন তাহলে সেগুলোকে আগে শোধ করে নিন। আর সব সময় চেষ্টা করবেন কম লোন নেওয়ার। কারণ যদি আপনি বেশি বেশি লোন নেন তাহলে সব সময় সেই লোনগুলো কিভাবে শোধ করবো সেই চিন্তায় ঘুরতে থাকবে। ফলে আপনি একটি কর্মচারীর মতো সারাদিন শুধু কাজ করে যাবেন। 

এতে আপনার সেভিং কিংবা ইনভেসমেন্টের প্রসেসটি আর করার সুযোগ হয় না। সে সঙ্গে আপনি যখন আপনার লোনটি শোধ হয়ে যাবে তখন আর চেষ্টা করবেন আরো বড় একটি লোন নেওয়ার।এভাবে আপনি একের পর এক লোন নিতে থাকবেন, আর সে লোনগুলো শোধ করার তালে মগ্ন থাকবেন। আর এভাবেই আপনি কখনো টাকা সেভ করতে পারবেন না।

আলাদা আলাদা জায়গায় ইনভেস্ট করা উচিত। কারণ কোন একটি জায়গায় যদি আপনার লস হয় তাহলে অন্য একটি জায়গায় অবশ্যই লাভ হবে। এতে আপনার টাকাটা উসুল হয়ে যাবে। এছাড়াও যারা নিজেদের জীবন বললে ধনী হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল একজন ভালো ইনভেস্টার। তাই আলাদা জায়গায় ইনভেস্ট করুন।

এছাড়াও আপনার যদি মনে হয় যে, আপনার এই কাজটি করলে হয়তো লাভ হতে পারে। তাই নির্দ্বিধায় সে কাজটি করা শুরু করুন। আমাদের জীবনে এমন ছোট ছোট কিছু রিস্ক নেওয়া অবশ্যই উচিত। কারণ পরে যেন সে বিষয়ে আফসোস না হয়। 

আপনার সাথে কাজ করে আপনার একটি বন্ধু অনেক বড়লোক হয়ে গেছে এখন আপনার মাথায় অবশ্যই এই চিন্তাতে আসতে পারে যে, আমি যদি সেরকম করে কাজ করতাম তাহলে আমিও হয়তো তার মত হতে পারতাম। তাই ছোট ছোট রিক্স নিন। অন্তত পরে আপনাকে বোঝাতে পারবেন যে, আপনি চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু হয়নি।

আর জীবনের সব ডিসিশান ভেবে চিনতে নেওয়া উচিত। এছারাও পরিবারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এর পরামর্শ নেওয়ার ফলে, অনেক ভুল সিদ্ধান্তের সমস্যা দূর হয়ে যায়। আমরা যে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেব তা কিন্তু নয়। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। তাই অবশ্যই পরিবারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার সম্পূর্ণ পড়েছে তাহলে অবশ্যই আপনি জানতে পেরেছেন ধনী হবার পাঁচ উপায় সম্পর্কে। আজকের এই আর্টিকেল থেকে যদি আপনি কোন উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে শেয়ার করবেন।


পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url