অতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায় - পেটের মেদ কমাতে করণীয়

অতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায় ওজন বাড়ার সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত চর্বির সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। তাদের মধ্যে কমন একটি সমস্যা হল অতিরিক্ত ভুরি বাড়ার সমস্যা। এ সমস্যা নিয়ে অনেকে ভুগছেন। ওজন তো কমানো যায় খুব সহজেই কিন্তু এ বুড়ি কিভাবে কমানো যাবে, এই উপায় অনেকেই জানা নেই। পুলিশ সমস্যা হয়ে থাকে মূলত অতিরিক্ত চর্বির জন্য। 

অতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায়

আমাদের পেটে যখন অতিরিক্ত চর্বি হতে শুরু করে তখন পেটটা অনেক বড় হতে থাকে। তখন আমরা যদি ওজন কমানোর চেষ্টা করি তাহলে, ওজন তো খুব সহজে কমে যায় কিন্তু এই ভুলের সমস্যা থেকেই যায়। কিছুদিন ভোরের সমস্যা না থাকলেও কয়েকদিন খাবার পর আবার এই সমস্যা দেখা দেয়। এখন কথা হলো কিভাবে এই সমস্যা আমরা দূর করব। তাহলে চলুন জেনে নেই অতিরিক্ত  ভুড়ির সমস্যা দূর করার উপায়।

অতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায় ।অতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায় 

বর্তমানে মানুষদের মধ্যে ওজনের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভুড়ি বাড়ার  সমস্যাও আরো দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমনকি এই ভুড়ির কারণে আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাদের ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের রোগের আশঙ্কা বেশি রয়েছে। তাই অবশ্যই আমাদের শরীরে জন্য অতিরিক্ত ঘুড়ি পাড়ার সমস্যা যেকোনো ধরনের রোগটি ডেকে নিয়ে আনতে পারে।

তাই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। যারা পরবর্তীতে কোন বড় রোগের সম্মুখীন না হতে হয়। এমনি তো আমরা অতিরিক্ত ভুড়ি পছন্দ করি না। আমরা সকলেই চাই একটি ফিটফাট শরীর। কিন্তু সেটা অনেকে করতে পারে না। তার জন্মগত দোষ তা কিন্তু নয়। সে চাইলেই এর সমাধান করতে পারবে। তাই তেমনি এক ধরনের সমাধান আমরাও করবো। 

তাহলে চলুন দেখে নেই সে সমাধান। আমরা এখানে জানবো কিভাবে পেটের চর্বি কমানো যায় এবং পেটের চর্বি হওয়া বন্ধ করা যায়। এই দুটি যদি আরো করতে পারি তাহলে আমাদের ভুড়ির সমস্যা কমে যাবে।

পেটের চর্বি হওয়া বন্ধ করার উপায়ঃ

আর যদি আগে থেকে পেটের চর্বি খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারি তাহলে, পরবর্তীতে ভুড়ি বাড়ার সমস্যায় আর ভুগতে হবে না। তাই আগে থেকে যদি সতর্ক হওয়া যায় তাহলে, পরবর্তীতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। তারা বিভিন্ন পায়ের চর্বি হওয়া বন্ধ করতে পার

১।ট্রান্সফ্যাট খাওয়া বন্ধ করতে হবে

অর্থাৎ যে সমস্ত খাবারের ট্রান্সফ্যাট থাকে, সেসব খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। যেমনঃ কেক, কুকিস, ইত্যাদি আর বিভিন্ন ধরনের খাবার। বিজ্ঞানীরা ছয় বছর ধরে বানরের উপর একটি গবেষণা করেছেন। কিছু বানরকে ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার দেওয়া হয় এবং কিছু বাদুরকে দেওয়া হয় না। এরপর গবেষণায় জানা গেল যে, যাদের ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাবার দেওয়া হয়েছে তাদের অনেক পরিমাণে ভুড়ি বেড়ে গেছে। আর যাদের দেওয়া হয়নি তাদের ভুড়ির সমস্যা হয়নি।

২।স্ট্রেস কমাতে হবে

স্ট্রেস আমাদের শরীরে এক ধরনের হরমোন নিষ্কৃত করে। এ হয় মন আমাদের পেটে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে তাদের শরীরে, বেশি পরিমাণ ওই হরমোনটি রয়েছে, তাদের  খাবার সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। সেসঙ্গে এই হরমোনটি পেটের চর্বি জমাত ও সাহায্য করে।

আর যাদের জীবনটাই স্ট্রেসফুল, তারা সপ্তাহের কোন একটা দিনে নিজেকে খুশি করার জন্য কিছু করতে পারেন। কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন কিংবা পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারেন।

৩।চিনি কম খাওয়া

চিনি যুক্ত খাবার আমাদের পেটে চর্বি জামাতে সাহায্য করে। এছাড়াও চিনি আমাদের শরীরের জন্য খুব একটা ভালো নয়। চিনি খাওয়ার মাধ্যমে আরও বিভিন্ন ধরনের রোগের আশঙ্কা থাকতে পারে। যেমনঃ ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও বাইরের ড্রিংক গুলোতেও কিন্তু অনেক পরিমাণে চিনি দেওয়া থাকে। 

যেগুলো আপনার শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। বাইরের ড্রিংকগুলোতে মিষ্টি জাতীয় স্বাদ খুব একটা পাওয়া যায় না। কিন্তু সেখানে চিনি দেওয়া থাকে। ফলে অনেক পরিমাণে খেয়ে নিল আপনার বুঝতে পারবেন না যে এখানে ঠিক কত পরিমাণে চিনি দেওয়া রয়েছে। তাই এগুলো শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকারক হতে পারে।

৪।পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো

পর্যাপ্ত পরিমাণে কমানো যেমন স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারিতা তেমনি আমাদের ভুড়ির সমস্যা কমাতেও সাহায্য করবে। তেমনি আমাদের ওজন কমাতেও অনেক সাহায্য করে। একটি গবেষণায় মহিলাদের ওপর ১২ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন ৭ ঘন্টা অথবা আট ঘন্টা ঘুমিয়েছেন আর যারা প্রতিদিন পাঁচ ঘন্টার কম ঘুমেতে তাদের মধ্যে কি হয়েছে।

 অবশেষে এই গবেষণায় জানা যায় যে, যারা কম ঘুমিয়েছেন তাদের মধ্যে ওজন বাড়ার সমস্যা অনেক বেশি হয়ে গেছে। আর যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থাৎ ছাদ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমিয়েছেন তাদের ওজনের তফাৎটা অনেক কম। তাই এই ঘুম অবশ্যই আমাদের ওজনের সাথেও সংযুক্ত।

পেটের চর্বি কমানোর উপায়ঃঅতিরিক্ত ভুড়ি কমানোর উপায় 

এতক্ষণ আমরা জানলাম কিভাবে পেটের চর্বি হওয়া বন্ধ করা যায়। পেটে চর্বি বন্ধ করার পাশাপাশি চর্বি কমানোর উপায় গুলো জানতে হবে। এগুলো যেমন আপনার চর্বের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে তেমনি আপনার শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

১।সাদা কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করা

গবেষণায় জানা গেছে যারা আগে থেকে মোটা, তারা তো প্রতিদিন ৫০ গ্রামের কম সাদা কার্বোহাইড্রেট সংযুক্ত খাবার খায়। তাহলে তাদের চর্বির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। এমনকি যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদেরও দেখা গেছে। এখন কথা হল আপনি যদি সাদা ভাত সাদা রুটি না খান তাহলে, আর কি খাবেন? বাদামি অথবা লাল কালারের যেসব ভাত রয়েছে সেগুলোকে খেতে পারেন। আবার গমের রুটি খেতে পারেন। আর যারা এই বাদামি রঙের রুটি অথবা ভাত গুলো খেয়েছে তাদের চর্বির প্রবণতা অনেকাংশে কমে গেছে।

২।আঁশযুক্ত খাবার

চর্বি কমানোর জন্য এই আঁশযুক্ত খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ খাবারগুলো চর্বি কমাতে অনেক সাহায্য করে। এরা যখন পেটে যায় তখন, এক ধরনের লিকুইড তৈরি করে যার কারণে পেট সবসময় ভরা ভরা থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত খাবারের যে সমস্যাটি রয়েছে সেটা অনেকাংশেই কমে যাবে। এর ফলে আপনি যে পরিমাণ খাবার খেতেন তার তুলনায় কম পরিমাণে খাবার খেতে শুরু করবেন। এতে করে একদিকে যেমন আপনার চর্বির সমস্যা কমে যাবে তেমনি আপনার ওজনের সমস্যাও কমে যাবে।

৩।প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া

যায় নাকি আছে যারা অন্যদের তুলনায় প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি খান তাদের পেটের চর্বি জমার সমস্যাটা অনেক কমে গেছে। তাই ওজনের সমস্যা কিংবা অতিরিক্ত ভুড়ির সমস্যা থাকলে, আপনারা প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারেন। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় প্রোটিন যুক্ত খাবার রাখলে আপনাদের এই সমস্যাগুলো অনেকাংশেই কমে যাবে।

৪।দৌড়ানো

আপনারা হয়তো সকলে জানেন যে দৌড়ানোর মাধ্যমে আমাদের পেটে যে অতিরিক্ত চর্বিগুলো রয়েছে সেগুলো ঘেমে বাহিরে বের হয়ে আসে। ফলে ভুড়ির সমস্যাও কমে যায়। এটি করা কষ্টসাধ্য হলেও অনেক উপকারী একটি মাধ্যম। দৌড়ানোর  মাধ্যমে যে আপনার ভুড়ি কিংবা ওজনের সমস্যা কমে তা কিন্তু নয়। এটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করবে।


পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url