গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় - গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ

গর্ভাবস্থায় নারীদেরকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়।গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। আজকে আমরা আপনাদের জানাবো গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়। তাহলে চলুন এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে জেনে আসা যাক গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়।

গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়

মাতৃত্ব একটি মেয়ের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশু জন্ম দেওয়ার জন্য গর্ভাবস্থায় অনেক বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন। এ সময় অনেক মায়েরা গর্ভের সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।তারা চিন্তা করেন কি করলে সন্তানের উপকার হবে এবং কি করলে সন্তানের ক্ষতি হবে। তাই গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় জানতে হলে আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ুন।

ভূমিকা:গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বাচ্চার সুস্বাস্থ্য রক্ষায় অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হয় এবং বিভিন্ন ধরনের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। তাই গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য জানতে হলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়

অন্য স্বাভাবিক মহিলাদের মতই গর্ভবতী মহিলাদেরও পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকা ঠিক না। গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে এটি বাচ্চার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়াও এর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর দিক রয়েছে,যেমন:এ অবস্থায় বেশি ঘুমালে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়,শরীরের পেশি স্ট্রং হয় না,সারাদিন ক্লান্ত অনুভব হয়,বাচ্চার মাথা বড় হয়ে যায়, বাচ্চা নিচের দিকে নামতে না পারা,নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, পা ফুলে যায়,পায়ে পানি জমে যায় ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।
এ সময় মহিলাদের বাচ্চার সুস্থ বিকাশের জন্য স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে হবে এবং বেশি বেশি হাটাহাটি করতে হবে। গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে বাচ্চার স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটে।

গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে কি হয়

অনেকেই জানেন না যে গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে কি হয়। এটি জানা খুব জরুরী যে গর্ভাবস্থায় ডান পাশে ঘুমালে কি হয়। কারণ গর্ভবতী মায়েদের সকল কার্যক্রম তার বাচ্চার উপরে প্রভাব ফেলে। গর্ভাবস্থায় মা যদি নিয়ম মেনে চলাফেরা করে এবং সঠিক নিয়মে ঘুমায় তাহলে জটিলতা কম হয় এবং বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক থাকে।
এই অবস্থায় মেয়েদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অস্থিরতা বেড়ে যায়,দম বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু গর্ভবতী মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো অত্যন্ত জরুরী।
কিন্তু গর্ভাবস্থায় চিৎ হয়ে বা ডানপাশে ঘুরে ঘুমানো উচিত নয়।কারণ এ সময় ডানপাশ ফিরে শুলে শিরার উপর চাপ পড়ে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। তাই গর্ভাবস্থায় বাম পাশে ফিরে শুতে হয় কারণ বাম পাশে ফিরে শুলে, হার্ট বেশি রক্ত পাম্প করতে পারে যার ফলে রক্ত ও পুষ্টি শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম থাকে যার ফলে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের রোগ শরীরে দেখা দিতে পারে।তাই এই অবস্থায় মহিলাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। অনেকে জানতে চান গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়। গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে তাতে যদি কোন ব্যাকটেরিয়া থেকে থাকে কিংবা অতিরিক্ত ঝাল যদি আপনার শরীর গ্রহণ করতে না পারে তাহলে ডায়রিয়া বা  আমাশয় এর মত রোগ হতে পারে।যেটি বাচ্চার ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল না খাওয়াই ভালো।

গর্ভাবস্থায় পানি কম খেলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পুষ্টিকর ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ এ সময় ডিহাইড্রেশন শুধু মায়েদের জন্য না বরং এ সময় শরীরে পানির অভাব ঘটলে গর্ভস্থ সন্তানের জন্যেও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি শরীরের না থাকলে গর্ভবতী মহিলা সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে এবং কনস্টিপেশন হতে পারে।
তাই এ সকল জটিলতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত।গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিন অন্ততপক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় না খেয়ে থাকলে কি হয়

গর্ভাবস্থায় না খেয়ে থাকলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয় এবং মা ও শিশু উভয়েরই পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শিশু স্বাভাবিক বিকাশের জন্য সময় ও পরিমানমত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় নারী যদি একবেলা না খেয়ে থাকেন তাহলে এতে তার শক্তি কমে যেতে পারে,তিনি দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন,শরীরে আয়রন হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে,রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে,ওজনের তারতম্য ঘটতে পারে,পায়ে পানি আসার মত বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সময়মত পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী।

গর্ভাবস্থায় মুড়ি খেলে কি হয়

আমাদের সকলের কাছে মুড়ি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত একটি খাবার। গর্ভাবস্থায় মুড়ি খাওয়া অত্যন্ত উপকারী কারণ মুড়িতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি,কার্বোহাইড্রেট,প্রোটিন,ফাইবার, পটাশিয়াম,ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি রয়েছে।
মুড়ির মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি থাকায় এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে, যা গর্ভাবস্থায় গর্ভের সন্তানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।এটি মানুষের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় পেটে এসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় নিয়মিত মুড়ি খাওয়ার অভ্যাস করলে এটি পেটে এসিডিটির সমস্যা দূর করবে।

গর্ভাবস্থায় সালোয়ার পরার নিয়ম

অনেকেই মনে করেন গর্ভাবস্থায় সালোয়ার নাভির ওপরে পরতে হয় যার ফলে বাচ্চার নিচের দিকে নামতে সাহায্য হয়। কিন্তু এটি একটি অত্যন্ত ভুল ধারণা।এ কথার কোন ভিত্তি নেই। গর্ভাবস্থায় সালোয়ার পরার আলাদা কোনো নিয়ম নেই। এ সময় গর্ভবতী মায়েদের ওঠাবসা করতে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যে পোশাক যেভাবে পরলে তাদের আরাম লাগে সেভাবে তারা পরতে পারেন। তবে এ সময় ঢিলে ধেলা পোশাক পরা গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভালো।

গর্ভাবস্থায় হাত-পা ব্যথা করার কারণ কিঃ

আমাদের কব্জির কাছে কিছু নার্ভ রয়েছে। যখন কোন কারণে এই কব্জির কাছাকাছি থাকা নার্ভ গুলোর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে তখন নার্ভের স্বাভাবিক কাজে বাধাপ্রাপ্ত হয় এ কারণে মূলত হাত-পা ঝিনঝিন করার সমস্যা হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় খুব বেশি নড়াচড়া না করার কারণে হাত পায়ে পানি এসে ফুলে থাকতে পারে। 

কারণ সে সময় নার্ভগুলো সাবেক ভাবে কাজ করতে পারে না, নার্ভের উপরে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ হয় এ কারণে মত তাদের হাত-পা ব্যথা কিংবা ঝিনঝিন করার মতো সমস্যা হয়। তাই হাত পায়ে খুব বেশি ব্যথা হলে হাটাহাটি করা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় রেস্ট নেওয়ার পাশাপাশি হাঁটাচলাও করতে হবে। 

কারণ আপনি যদি সব সময়ের জন্য বিছানায় বসে থাকেন কিংবা শুয়ে বসে রেস্ট করেন তাহলে, আপনার হাত পায়ের সমস্যা হতে পারে। তাই বেবি এবং আপনার ভালোর জন্য হাঁটাচলা করতে হবে। কিন্তু তাই বলে অতিরিক্ত পরিমাণে ভালো নয়।

গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ

গর্ভাবস্থার নারী জীবনের অত্যন্ত সুন্দর মুহূর্ত গুলোর মধ্যে একটি। এ সময় অত্যন্ত সচেতন ভাবে জীবন-যাপন করতে হয়। গর্ভাবস্থায় যে যে কাজগুলো করা নিষেধ তা নিচে তুলে ধরা হলো:
  • এ অবস্থায় ভারী কোন কাজ করা যাবে না
  • ভারী কোন আসবাবপত্র একদিক থেকে অন্য দিকে সরানো যাবে না
  • উঁচুতে ওঠে কোন কাজ যেমন, ফ্যান পরিষ্কার করা,পর্দা পাল্টানো এ ধরনের কাজ এ অবস্থায় না করাই ভালো
  • দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে এ ধরনের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ এটি গোড়ালি এবং শিরা গুলিতে অযৌক্তিক চাপ ফেলে

শেষকথা:গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয়

গর্ভাবস্থার নারীদের জীবনের বিশেষ একটি সময়। তাই এ অবস্থায় চলাফেরা জীবন ধারন ও খাদ্যের ব্যাপারে অনেক সচেতন থাকতে হয়।আজকের এই আর্টিকেলে আমরা গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে।


পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url